
রাস্তার দুই পাশ থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে শত শত গাছ, তদন্তের আশ্বাস এলজিইডির
কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের চরার বাজার ব্রিজের পূর্ব পাশে কামাল বস্তি এলাকায় রাস্তার পাশের সরকারি গাছ রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে রাস্তার দুই পাশের সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কামাল বস্তি এলাকার এক পল্লী চিকিৎসকের বাড়ির পাশ থেকে গাছ কাটার সময় স্থানীয়রা বাধা দেন। এলাকাবাসী জানান, করাতের শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, কয়েকজন ব্যক্তি একটি সরকারি গাছের প্রায় অর্ধেক কেটে ফেলেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, তারা গাছ কাটায় বাধা দিলে সাবেক ইউপি সদস্য আতাই মিয়ার ছেলে ইমরান তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে আব্দুল হামিদের ছেলে ওসমান ও একই গ্রামের তোফায়েলসহ আরও একজন ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, শুধু ওই একটি গাছ নয়, রাস্তার দুই পাশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে বিভিন্ন সময়ে রাস্তার পাশ থেকে এভাবে সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে এসব গাছ কারা কেটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আসিফ খান রাবি বলেন, রাস্তার দুই পাশের গাছগুলো নিলামের জন্য সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়েছে। রাস্তার কাজের স্বার্থে গাছগুলো দ্রুত নিলামে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে নিলামের আগেই কে বা কারা রাতের আঁধারে গাছ কেটে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ৫ নম্বর উত্তর রনিখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান মাস্টার বলেন, যারা রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ইমরান, ওসমান ও তোফায়েলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে সাবেক ইউপি সদস্য আতাই মিয়াকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, এলাকাবাসী যদি সাক্ষ্য দিয়ে থাকে যে তার ছেলে রাস্তার পাশ থেকে অবৈধভাবে গাছ কেটেছে, তাহলে প্রশাসন তার বিচার করুক। তিনি কোনো ধরনের অন্যায়কে সমর্থন করেন না বলেও জানান।
সরকারি গাছ নিলামের আগেই কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।