বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর এলাকায় পাশের হার এবং ছেলেদের পড়াশোনায় আগ্রহ খুবই কম : এমপি তাহসিনা রুশদীর
নিজেস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া এবং দক্ষতা ছাড়া কেবল প্রবাসে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর। একই সাথে, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও প্রয়োজনীয় সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত চারতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমপি তাহসিনা রুশদীর বলেন, শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে, সিলেট বিভাগের মধ্যে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর এলাকায় পাশের হার এবং ছেলেদের পড়াশোনায় আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে কম। অতীতে গ্রামীণ এলাকায় মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও সরকারের অবৈতনিক সুবিধা ও বিভিন্ন পদক্ষেপে নারীরা এখন বেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ, তার বিপরীতে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকেই অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সন্তানদের মনে শুধু বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা গেঁথে দেওয়া হয়। এর ফলে তরুণরা পড়াশোনা ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জনে অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় ইংরেজি জ্ঞান ও যোগ্যতা না থাকায় প্রবাসে গিয়ে অনেককে কম বেতনে বা অদক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করতে হয়। এমনকি আইএলটিএস-এ পর্যাপ্ত স্কোর তুলতে না পেরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেয়েদের ওপর নির্ভর করে বিদেশে যাওয়ার মতো আত্মসম্মানবিরোধী প্রবণতাও তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমপি জোর দিয়ে বলেন, কেবল আকর্ষণীয় ভবন বা দৃষ্টিনন্দন কম্পাউন্ড থাকলেই শিক্ষার সঠিক মানদণ্ড প্রকাশ পায় না। বরং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মেলবন্ধন এবং গুণগত পাঠদানই আসল। তাই, প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ও মেধার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি অনুদান ও উন্নয়ন কাজ বরাদ্দ করা হবে। পাশাপাশি এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে এলাকার তরুণদের কেবল বিদেশের মোহ না রেখে দেশের নামকরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার মতো নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।